Text size A A A
Color C C C C
পাতা

অফিস সম্পর্কিত

বাংলাদেশ পর্যটন শিল্প বিকাশের ক্ষেত্রে অমিত সম্ভাবনাময় একটি দেশ।  ক্ষুদ্র ভৌগোলিক সীমারেখার মধ্যে এতো বেশী রূপবৈচিত্র্য পর্যটকদের সহজে আকৃষ্ট করে।  এ দেশে অবস্থিত পৃথিবীর দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন সমুদ্র সৈকত-কক্সবাজার, বিশ্বের একক বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট-সুন্দরবন,  সমুদ্র কন্যা-কুয়াকাটা, প্রবাল দ্বীপ-সেন্টমার্টিন, পাহাড়ি অঞ্চলের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য, হাওড়-বাওড়, ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, বিভিন্ন ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ স্থান প্রভৃতি  পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। বাংলাদেশ এ সম্ভাবনাময় শিল্পের সুষ্ঠু উন্নয়ন ও বিকাশের  মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ব বাজারে আসন করে নিতে পারে। পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত এ দেশে পর্যটন শিল্পের সুষ্ঠু বিকাশ ও উন্নয়ন ঘটেনি। পরিকল্পিত উন্নয়ন হলে পর্যটন দেশের একক  বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী শিল্পে পরিণত হতে পারে। বিপুল সম্ভাবনাময় এ শিল্পকে জাতীয় পরিকল্পনায় অগ্রাধিকার দিয়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে অদূর ভবিষ্যতে পর্যটন শিল্প দেশের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে উলে­খযোগ্য অবদান রাখতে সক্ষম হবে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর  ‘স্বপ্নের সোনার বাংলা’ গড়তে ও বর্তমান সরকারের ‘দিন বদলের’ অঙ্গীকার বাস্তবায়নের জন্য পর্যটন শিল্প হতে পারে একটি অন্যতম কার্যকরী হাতিয়ার। তাছাড়া আগামী ২০২১ সাল নাগাদ ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ঈপ্সিত লক্ষ্য অর্জনে পর্যটন শিল্প হতে পারে একটি অন্যতম মাধ্যম ।

 

চিরায়ত বাংলার রূপ ও সৌন্দর্য-কে পর্যটন শিল্পের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর জন্য জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে পিও-১৪৩ বলে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন প্রতিষ্ঠা করেন। তারপর থেকে এ সংস্থা দেশের বিভিন্ন পর্যটন আকর্ষণীয় স্থানে পর্যটকদের জন্য বেশ কিছু সুবিধাদি গড়ে  তুলেছে। কিন্তু দেশে কাঙ্খিত পর্যটন সুবিধা সৃষ্টির জন্য অবকাঠামোগত আরো উন্নয়ন প্রয়োজন।  পাশাপাশি স্বল্প, দীর্ঘ ও মধ্য মেয়াদী প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণপূর্বক ব্যক্তিখাতের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারলে আগামী ১০ বছরে দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন এবং সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ( MDGs) অর্জন সম্ভব হবে। 

 

বর্তমান সরকারের সময়াবদ্ধ (Time Bound) কর্মপরিকল্পনা আওতায় বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন থেকে কিছু  প্রকল্প চিহ্নিত করা হয়েছে। এতে পর্যটন পণ্য চিহ্নিতকরণের পাশাপাশি উন্নয়ন কার্যক্রম, মানবসম্পদ উন্নয়নে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, সংস্থার বিদ্যমান বাণিজ্যিক ইউনিটসমূহের মান উন্নয়ন কার্যক্রমসহ প্রচার ও বিপণন মূলক কার্যক্রমের বিষয় উলে­খ রয়েছে।  প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান হলে এগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব। উলে­খ্য, স্পেশাল ব্রাঞ্চের তথ্য অনুযায়ী ২০০৮ সালে ৪৬৭ লক্ষ বিদেশী পর্যটক বাংলাদেশে আগমন করেন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী এ আগমন থেকে ৬১৩.০০ কোটি টাকা আয় হয়।  সময়াবদ্ধ পরিকল্পনাটি  বাস্তবায়িত হলে ২০১৪ সাল নাগাদ দেশে পর্যটক আগমন এবং এ খাতে আয় দ্বিগুন হারে বৃদ্ধি পাবে। একই সাথে এদেশে পর্যটন শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বৈপ্ল­বিক পরিবর্তন সাধিত হবে।

             

                 বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের লক্ষ্য ও প্রধান উদ্দেশ্য

*   বাংলাদেশে পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন, প্রসার, বিকাশ এবং বিপণন কার্যক্রম গ্রহণ;

*   বিদেশে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরা;

*   অভ্যন্তরীন পর্যটন অবকাঠামো সৃষ্টি;

                          *   পর্যটন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মানব সম্পদের উন্নয়ন।

ছবি